শ্রীশ্রীঠাকুর বলিলেন –"একবারেই কি হয়? নামের গোড়া ধরেন, 'নামের গোড়া ধরিলেই সব হইবে।"

 তাই শ্রীশ্রীআনন্দময়ী মা মাধব পাগলাকে বলেন–"তোর গুরু তোকে যেমন কৃপা করেছেন এমন কজন গুরু শিষ্যকে কৃপা করেন? ঠাকুর যা বলেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করিস।"


আর একবার মাধব পাগলার দীক্ষা গ্রহণের দুই বৎসর পরে শ্রীশ্রীঠাকুর কাশী আসিয়া রামপুরায় এক শিষ্যের বাড়িতে উঠিলেন। মাধব পাগলা এই সংবাদ পাইয়া শ্রীশ্রীগুরুদর্শন করিতে যান।


শ্রীশ্রীঠাকুর মাধব পাগলাকে জিজ্ঞাসা করিলেন – "নাম জপ হইতেছে তো?"

উত্তরে মাধব পাগলা কহিলেন –'আমার মন চঞ্চল ও অস্থির। আমার দ্বারা নাম করা হইবে না।'


শ্রীশ্রীঠাকুর বলিলেন –"একবারেই কি হয়? নামের গোড়া ধরেন, 'নামের গোড়া ধরিলেই সব হইবে।"


ঠাকুরের কথায় কাঁদ কাঁদ হইয়া মাধব পাগলা বলিলেন,  'ঠাকুর। আমার মনে হয় আমার দ্বারা কিছু হইবে না।'


শ্রীশ্রীঠাকুর সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন– "আপনার না হইলে কি আমার ছুটি আছে?"


ঠাকুরের শ্রীমুখ হইতে এই বাণী শোনামাত্র মাধব পাগলা ক্ষোভে ও দুঃখে মর্মাহত হইয়া শ্রীগুরুকে প্রণাম করিয়া বিদায় লইলেন এবং পথ চলিতে চলিতে ভাবিতে লাগিলেন –'হায়! হায়! এ কি সর্বনাশ, আমি যদি ঠিকভাবে নাম করিয়া উদ্ধার না হই তাহা হইলে ঠাকুরকে তো আমার জন্য আবার জন্ম নিতে হবে।'


মনে মনে ঠাকুরকে বলিলেন– 'না-না, ঠাকুর আমার জন্য তুমি আর আসিও না।আমার পাপ আমি ভোগ করিব।আমার জন্য তুমি দুঃখ সহিতে এ দুঃখের সংসারে আর আসিও না।'


মাধব পাগলা কিছুদিন পর্যন্ত এই কথা মনে মনে চিন্তা করিয়া নিজেকে ঠাকুরের নিকট অপরাধী মনে করিতেন এবং কাঁদিয়া ফেলিতেন।পরে তিনি বুঝিতে পারিলেন –গুরুর প্রতি যে শিষ্যের এইপ্রকার মনোভাব এবং এতটা মমত্ববোধ গুরু সেই শিষ্যকে মুক্ত করিয়া রাখিয়াছেন। শিষ্যের মোক্ষের আগ্রহ বাড়াইবার জন্যই গুরুর এই প্রকার স্বীকারোক্তি। 


প্রমাণ যস্য দেবে পরাভক্তির্যথা দেবে তথা গুরৌ

              তস্যৈতে কথিতাহ্যর্থাঃ প্রকাশন্তে মহাত্মনঃ

  —শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ।



1 Comments

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post