৭টার সময় বড়দা ঠাকুর লইয়া আসিলেন। আমি ঠাকুর প্রণাম করিবার সময় শ্রীপদে মাথা রাখিয়া কাঁদিতেছিলাম। তখন ঠাকুর বলিলেন, এই রকম কইরা সব সময় কাঁদ কেন ?
এই দেহটারে এত ভালবাইসা লাভ কি ? এই দেহ একদিন চইলা যাইব।
গত রাত একটার সময় তুমি বেহাগ রাগিণীতে প্রাণস্পর্শী করুণ মিনতিপূর্ণ সুরে কীর্তন আরম্ভ করায় আমি ঐখান থাইকা ছুইটা অাইসা কীর্তন প্রদক্ষিণ করছি। কীর্তনের সঙ্গে তোমরা সহ মঞ্চের চাইরদিকে ঘুরতে আমারে দেখছ। তুমি হারমোনিয়াম বাজাইয়া চক্ষু বুইজা অঝোরে চোখের জল ফেইলা কীর্তন করার ফাঁকে ফাঁকে চোখ খুলতেই আমারে দেখছ।
পরে প্রাণ পাগলকরা ঝুমুর আরম্ভ করছ। তা শুইনা আনন্দে হাততালি দিয়া চাইর দিক ঘুইরা নৃত্য করছি - তাও দেখছ। পিতা ঠাকুর হাততালি দিয়া নাচতে নাচতে বারে বারে আমারে দেখছেন। সুরধনী মা তো পাগলিনী প্রায় দুই বাহু ঊর্ধ্বে তুইলা নাচছেন। তাঁর জ্ঞান ছিল না।
শচীনবাবুও নাচবার সময় আমারে লক্ষ্য করছেন। মণিবাবু কাঁসা বাজাইয়া নাচতে নাচতে আমারে দেখছেন।
বহু দেবদেবী কীর্তনে যোগ দিয়েছিলেন। নাও ওঠ। উইঠা বল, তুমি কাঁদ কেন ?
আমি দাঁড়াইয়া বলিলাম, " বলে কি হবে, তুমি বুঝতে পারবে না।" এই কথা বলিয়াই আমি চোখ মুছিতে মুছিতে নীচে নামিয়া পড়ি।
নীচে নামিয়া দেখিলাম পিতাঠাকুর, বড়দা, ঠাকুরভাই বসিয়া হরিদার কথা বলিতেছেন। আমি তার মধ্যেই বলিলাম, " কাল রাত্রিতে ঠাকুরকে কীর্তনের আসরের চারিদিকে হাততালি দিয়া নৃত্য করিতে করিতে আমাদের সঙ্গে প্রদক্ষিণ করিতে দেখিয়াছেন কি ? "
তাঁহারা তিনজন চমকিয়া উঠিয়া বলিয়া উঠিলেন, " হ্যাঁ, হ্যাঁ দেখিয়াছি । কেন এখন ঠাকুর সেইজন্য কিছু বলিয়াছেন কি ?"
আমি উত্তরে জানাইলাম যে, ঠাকুর এই কথা নিজ হইতে বলিয়াছেন।
ফনীন্দ্ৰ কুমার মালাকার
রামভাই স্মরণে