তুলসীদাস গঙ্গোপাধ্যায়ের শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণাশ্রয় লাভ
শ্রীশ্রীঠাকুরের মনোহর রূপ দর্শনের পর হইতে সর্ব্বদা সেই রূপ আমার মানসপটে বিরাজমান থাকিত।মনে তিনি যেন সর্ব্বদা আমার সম্মুখে দাঁড়াইয়া পথ নির্দেশ দিতেছেন। এইভাবে আমার দিবারাত্রি অতিবাহিত হইতে লাগিল। কিছুকাল পরে অন্য এক ব্যক্তির সান্নিধ্যে আসিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার অলৌকিক শক্তির কথা বলিয়া নিজেকে মহাপুরুষ রূপে পরিচয় দিয়াছিলেন।তিনি আমাকে এবং যামিনী মহারাজকে মন্ত্র দিয়া তাঁহার দলভুক্ত করিলেন। আমাদিগকে তাঁহার উপদিষ্ট কঠোর নিয়মাবলীর মধ্য দিয়া চলিতে হইত।তাঁহার প্রদত্ত মন্ত্রটি তাঁহার ভৌতিক শক্তি বলে আমাদের মধ্যে কিছুকাল চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় ছিল। পরে এমন এক অবস্থায় আমরা আসিয়া পড়িলাম - সেই মন্ত্র আমাদের আর উচ্চারণ করিবার প্রবৃত্তি হইল না। মনে হইত - এই পথে যাইতে কে যেন বাঁধা দিতেছে।এইভাবে কত দিন কাটিয়া গেল।আমি আমাদের বাগানে বসিয়া বন্ধুদের সাথে পাশা খেলায় মত্ত ছিলাম। হঠাৎ মোটরগাড়ীর আওয়াজ কানে আসিল।২/৩ মিনিট পরে মোটরগাড়ীর দিকে আমরা তাকাইলাম - দেখিলাম আমার খুড়া পূর্ণ গাঙ্গুলী মহাশয় মোটরের পিছনে দাঁড়াইয়া আছেন। একটি ছেলে আসিয়া আমাকে বলিল-কৃষ্ণকুমার নন্দী মহাশয়ের বাড়িতে রামঠাকুর আসিয়াছেন। এই খবর আমার কানে আসা মাত্রই আমি নন্দী মহাশয়ের বাড়িতে গিয়া উপস্থিত হইলাম। নন্দী মহাশয় বলিলেন-এইমাত্র ঠাকুর অক্ষয়বাবুর (ওভারসিয়ার) বাড়িতে গিয়াছেন। অক্ষয়বাবু অন্য গুরুর আশ্রিত হইলেও ঠাকুরকে ভগবৎস্বরূপ জানিতেন।তারপর আমি অক্ষয়বাবুর বাড়িতে পৌঁছিলাম। ঠাকুরের সন্নিকটে যাওয়ার পর তিনি আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকাইয়া রহিলেন। আমি মনে মনে 'রাম রাম' জপ করিতে করিতে তাঁহার পদতলে লুটাইয়া তাঁহাকে প্রণাম করিলাম।প্রণামান্তে আমি ঠাকুর হইতে একটু দূরে সরিয়া দাঁড়াইলাম। বর্ণনাতীত সেই মূহুর্তের দৃশ্য। আমি দেখিলাম - শ্রীশ্রীঠাকুরের চতুর্দিকে নানা বর্ণের ঝলকের ছটা।
আমার বার বার এই দৃশ্য দেখিতে ইচ্ছা হইতেছিল,কিন্তু বার বার তাঁহার দিকে তাকাইবার সাহস হইল না। এই চোখ ঝলসানো দৃশ্যটি৫/৭ মিনিট কাল ছিল।
শ্রীশ্রীরামঠাকুর ও তাঁর লীলাপার্ষদ
চলমান অংশ ১১.....
