ভক্তিমতী রমণী কান্নায় ভেঙে পড়লেন।এ যে মৃত্যু-শোক।কে দেবে স্বান্তনা? স্বান্তনার ভাষাও তো নেই।স্বামী গেল,তার কয় বৎসর পর ছোট মেয়ে সমীও পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেল। মহিলাটি হলেন ভক্ত অতুলবাবুর স্ত্রী।তিনিও রামঠাকুরের ভক্ত ও শিষ্যা।এমন শোকের দিনে ঠাকুর এসে পাশে দাঁড়ালেন। স্বান্তনা দিলেন।তারপর তাঁদের ঠাকুর ঘরে গিয়ে বসলেন।হঠাৎ তাঁদের বাড়ীর পরিচারিকা দেখলো ঠাকুরের কোলে বসে রয়েছে অতুলবাবু'র ছোট্ট মেয়ে সমী।সে ছুটে গিয়ে বললো শোকসন্তপ্তা অতুলবাবু'র স্ত্রীকে।সেও ছুটে এসে তার মৃত মেয়েকে কয়েক মুহূর্তের জন্য দেখতে পেলো রামঠাকুরের কোলে,শান্ত হয়ে বসে আছে। ঠাকুর বললেন, "কাঁদতে নাই সে তো ভালই আছে।'
এবারে ঠাকুরের পায়ে মাথা লুটিয়ে প্রণাম করলো সেই ভক্তিমতী রমণী। এইভাবে ঠাকুর সন্তানহারা মা'কে স্বান্তনা দিলেন ঠাকুর বলে, 'উপায়-নিরুপায়,—সম্পূর্ণরূপে নিরূপায় না হলে উপায় হবে না।'
নাম-নাম,নাম করেন।নামেই শান্তি। নাম সত্য,নাম নিত্য।তাঁর কীর্তনেই আনন্দ।নামেই সকল অবস্থা স্থির করিয়া নিবে।দুশ্চিন্তা করিবেন না।সংসারে শান্তি কোথায়? প্রারব্ধ বশতঃ জীবের গতাগতি, স্থিতির যোগ বিয়োগ উৎপন্ন হয়।
সংসারে যাহা কিছু সংযোগ বিয়োগ (জন্ম-মৃত্যু) হইয়া থাকে সকলি রাক্ষসী,আসুরী মায়া জানিয়া সকল অবস্থাকে তুচ্ছ করিয়া ফেলিতে চেষ্টা করিবেন।এ জগতে কত লোকের কত রকম অবস্থা, দুরবস্থা ঘটে তাহা দেখিয়া শুনিয়া ধৈর্য্য ধরিতে চেষ্টা রাখা উচিত।'
কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর
মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়
