১৯৪২ সালের গোড়ার দিকে একটানা চার-ছয় মাস ধরে ঠাকুর আমাদের বাড়িতেই আছেন।তখন দেখতাম প্রায় সর্বদাই তিনি একটি গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা খুলে সত্যনারায়ণের পাঁচালী পাঠ করতেন,আর মাঝে মাঝেই বলতেন, "কলিকালে,সত্যনারায়ণ জাগ্রত।সত্যনারায়ণের সেবা ছাড়া জীবের মুক্তি নাই।আপনারা সকলে সত্যনারায়ণ সেবা করেন।"
ঠাকুরের এই কথা সত্ত্বেও তখন কেউই সত্যনারায়ণে মন দিতো না।তবে শুনেছি আশ্রিতদের মধ্যে দু'একজন ১৯৪২ সালের পূর্বেও ঠাকুরের মুখে সত্যনারায়ণের সেবার কথা শুনেছেন এবং ঠাকুরের কথামতো সত্যনারায়ণের পূজা করেছেন।ক্রমে সত্যনারায়ণ সেবার প্রচলন ভক্তমহলে বহুল হয় এবং সত্যনারায়ণ যে ঠাকুরেরই অংশ সে সম্বন্ধে আর কারোরই কোন সংশয় থাকলো না।
যখন কয়েক বৎসর পরে ঠাকুর নিজ হস্তে আমার স্বামীকে চৌমুহনী থেকে (নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত) ৫ টাকা পাঠিয়ে লিখেছিলেন—"কুঞ্জবাবুর জন্য"।দয়া করিয়া এই তোমার সিন্নির ৫ টাকা গ্রহণ করিবা–ইতি দয়াময় সত্যনারায়ণ।"
যাই হোক দেখতাম ঠাকুর সময় পেলেই সত্যনারায়ণের পাঁচালী পাঠ করতেন।
একদিন এমনই হলো, বেলা এগারোটায় ভোগ সাজানো হয়ে গেছে।আসন পাতা,ঠাকুর পাঁচালী পাঠে মগ্ন,বেলা বারোটার পর তাঁর পাঠ শেষ হলো।তখন তিনি নেমে এসে ভোগের সামনের আসনে বসলেন।এরকম মনোনিবেশ করে কোন বই পড়তে আমরা তো কখনও দেখি নি,শুনিওনি কারুর কাছে যে ঠাকুর ঘন্টার পর ঘন্টা কোনও বই,তাও আবার সশব্দে, কোনও দিন পড়েছেন তাঁর লীলা বিচিত্র। এর কারণ আমরা কি বা বুঝবো।
ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র
