নিত্য স্মার্ত সন্ধ্যা এবং শিব পূজা পদ্ধতি (অদিক্ষিত এবং উপনয়নহীন ব্রাত্যগণের জন্য)
শ্রী গণেশ শ্রী গণেশ শ্রী গণেশ
জোড়হাত করে দেবী গঙ্গাকে স্মরণ করবে -
"বিষ্ণুপাদার্ঘ্যসম্ভূতে গঙ্গে ত্রিপথগামিনি।
ধর্মদ্রবীতি বিখ্যাতে পাপং মে হর জাহ্নবি ৷৷
শ্রদ্ধয়া ভক্তি সম্পন্নে শ্রীমাতর্দেবি জাহ্নবি।
অমৃতেনাম্বুনা দেবি ভাগীরথি পুনীহি মাম্ ।।"
অতঃপর "শ্রী গঙ্গা" (৩) বলে মাথায় , সর্বাঙ্গে, সর্বত্র গঙ্গা জল ছিটিয়ে দেবে ।
তিলক ধারণ -
ভস্ম বা অষ্টগন্ধা দ্বারা তিলক করবে । ভস্ম বিভূতি সর্বোত্তম । প্রাতঃ কালে জল মিশিয়ে ( দুপুরে জল+গন্ধ তথা চন্দন মিশিয়ে, দুপুরের পর থেকে রাত্রে - শুধু শুকনো ভস্মে তিলক করবে । ভস্ম/অষ্টগন্ধা "শিবায় নমঃ" মন্ত্রে ডান হাত দিয়ে নিয়ে বাম হাতে রেখে , তারপর জল, চন্দন আদি মিশিয়ে , ডান হাতের অনামিকা অঙ্গুলি দ্বারা "শিবায় নমঃ" মন্ত্রে মিশ্রিত করতে করতে অভিমন্ত্রিত করতে হবে । তারপর ললাটে ধারনের সময়ও "শিবায় নমঃ" মন্ত্রেই ধারণ করবে ।
ভস্ম দিয়ে করলে অনামিকা অঙ্গুলি দ্বারা কেবল একটি বিন্দু কাটবে। অষ্টগন্ধা দ্বারা সম্পূর্ণ ললাটে লেপন করা যাবে । এবং মাঝখানে রক্তচন্দন বা কুমকুম দ্বারা "পরাশক্তয়ে নমঃ" মন্ত্রে একটি বিন্দু কাটবে।
শিখা বন্ধন -
যাদের শিখা আছে তারা নিম্ন মন্ত্রে শিখা বন্ধন করবে , যাদের নেই তারা শিখার স্থানে স্পর্শ করে নিম্ন মন্ত্র পাঠ করবে । যথা -
"নমো ব্রহ্মবাণী সহস্রাণী শিববাণী শতানী চ।
বিষ্ণোর্নাম সহস্রেণ শিখাবদ্ধং করোম্যঽম্ ।।"
আচমন -
ডানহাতে কুশি দ্বারা বামহাতে একবার জল নিয়ে , ডান হাতের সকল আঙ্গুলের অগ্রভাগ দ্বারা ঐ জলে ডুবিয়ে "নমঃ বিষ্ণু, নমঃ বিষ্ণু, নমঃ বিষ্ণু" বলে তিনবার মুখে ছিটাতে হবে । অতঃপর ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলবে।
মার্জন - নিম্ন মন্ত্র পাঠ করতে করতে কুশের অগ্রভাগ দ্বারা বা ডান হাতের অনামিকা অঙ্গুলি দ্বারা জল নিয়ে মস্তকে , সর্বাঙ্গে, ভূমিতে এবং ঊর্ধ্ব দিকে ছিটাতে হবে । পুষ্পাদি সকল উপকরণে ছিটিয়ে দিতে হবে ।
"নমঃ বিষ্ণু নমঃ বিষ্ণু নমঃ বিষ্ণু
অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোঽপি বা।
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং সবাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।।
নমঃ পুণ্ডরীকাক্ষ নমঃ পুণ্ডরীকাক্ষ নমঃ পুণ্ডরীকাক্ষ ।।"
হাত জোড় করে -
"সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যং বরেণ্যং বরদং শুভম্।
নারায়ণং নমস্কৃত্য সর্বকর্মাণি কারয়েৎ।।"
পুষ্পশুদ্ধি:-
সমস্ত ফুল,তুলসী,বেলপাতা,দূর্বা ইত্যাদিতে চন্দন ছিটিয়ে স্পর্শ করে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করবে।
"নমঃ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে পুষ্পশ্চয়া বকীর্ণে নমঃ"
করশুদ্ধি:-
একটি ফুল নিয়ে "করতলকরপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্" বলে পৃষ্ঠ করে "হোসৌ" বলে ঈশান কোণে ফেলে দিয়ে হাত ধুঁয়ে ফেলবে।
সামানার্ঘ্য স্থাপন-
ভূমিতে একটি ত্রিকোণ, তার বাহিরে বৃত্ত, বৃত্তের বাহিরে চতুষ্কোণ একে বলিবেন,
'এতে গন্ধপুষ্পে আধার শক্তয়ে নমঃ” বলে সচন্দন পুষ্প দিয়ে পূজা করে 'ফট্' বলে কোশা মণ্ডলের উপরে রাখবে। পরে নমঃ মন্ত্রে কোশায় জল ভর্তি করে কোশার অগ্রে গন্ধ, পুষ্প, অক্ষত বিল্বপত্র, হরিতকি, দূর্বা দিয়ে অঙ্কুশমুদ্রায় জলটি স্পর্শ করে নীচের মন্ত্রটি বলতে হয়-
"গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি ।
নর্মদে সিন্ধু -কাবেরি জলেঽস্মিন্ সন্নিধিং কুরু।। "
তারপর ' গঙ্গাদি তীর্থেভ্যো নমঃ' বলে ঐ জলে গন্ধপুষ্প দিয়ে "বং" মন্ত্রে ধেনুমুদ্রা দেখাবে। কিঞ্চিৎ জল নিয়ে তিনবার নিজের ওপরে ছেটাবে।
দ্রব্যশুদ্ধি-
অতঃপর "ফট্" মন্ত্রে উক্ত জল সকল উপকরণে ছিটিয়ে দেবে ।
ভূতশুদ্ধি -
করজোড়ে নিম্নোক্ত শ্লোকটি পাঠ করবে আর মনে মনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণযুগলকে স্মরণ করবে।
নমঃ"স্বকীয় হৃদয়ে ধ্যায়েৎ শ্রীকৃষ্ণ চরণাম্বুজম্।
ভুতশুদ্ধিমিমাং প্রাহুঃ সর্বাগমবিশারদাঃ।।"
তাম্রকুন্ড স্থাপন-
কুন্ড রাখার স্থানটিতে মধ্যমার সাহায্যে জল দিয়ে একটি ত্রিকোণ, তার বাহিরে বৃত্ত, বৃত্তের বাহিরে চতুষ্কোণ এঁকে' 'এতে গন্ধপুষ্পে আধার শক্তয়ে নমঃ” বলে সচন্দন পুষ্প দিয়ে পূজা করে 'ফট্' বলে কুন্ড মণ্ডলের উপরে রাখবে। কুন্ডতে "নমঃ" বলে কিন্ঞ্চিৎ জল দেবে। কোশার ডান দিকে তাম্রকুন্ড রাখবে ।
গন্ধাদির অর্চনা-
"বং এতেভ্য গন্ধাদিভ্য নম " ( এই মন্ত্রে ৩ বার ফুল ও চন্দনে জলের ছিটা দাও )
" এতে গন্ধপুষ্পে এতৎ গন্ধাদিভ্যো নমঃ" (একটি ফুল নিয়ে ফুল, তুলসী,বেলপাতা ইত্যাদি রাখার পাত্রে দেবে)
।এবার নিম্নোক্ত মন্ত্রগুলোতে একটি একটি করে পুষ্প তাম্রকুন্ডে প্রদান করবে।
"এতে গন্ধপুষ্পে এতধিপতয়ে শ্রী বিষ্ণবে নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে শ্রী শ্রী বিঘ্ননাশায় গণেশায় নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে বাস্তুপুরুষায় নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে ব্রহ্মণে নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে শিবাদি পঞ্চদেবতাভ্যো নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে আদিত্যাদি নবগ্রহেভ্যো নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে ইন্দ্রাদি দশদিকপালেভ্যো নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে মৎস্যাদি দশ অবতারেভ্যো নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে সর্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে সর্বেভ্যো দেবীভ্যো নমঃ"
"এতে গন্ধপুষ্পে শ্রী গুরুভ্যো নমঃ"
এবার একটি ফুল পূজা কক্ষের বাইরের দরজায় দ্বারদেবতাগণের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত মন্ত্রে প্রদান করবে:-
"এতে গন্ধপুষ্পে দ্বারদেবতাভ্যো নমঃ"
আসন শুদ্ধি -
সামনে আসনের তলায় মধ্যমার সাহায্যে জল দিয়ে একটি ত্রিকোণ, তার বাহিরে বৃত্ত ও তার বাহিরে চতুষ্কোণ এঁকে
"আধারশক্তয়ে কমলাসনায় নমঃ" বলে তাতে একটি ফুল দিয়ে আসনটি ধরে বলবে— "অস্য আসন-মন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠঋষিঃ সুতলং ছন্দঃ কুর্মো দেবতা আসনোপবেশনে বিনিয়োগঃ।"
তারপর কৃতাঞ্জলি হয়ে-
পৃথ্বি ত্বয়া ধৃতা লোকা দেবি ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা।
ত্বঞ্চ ধারয় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরু চাসনম্।।
এরপর জোড়হাত করে বাঁ কানের নিচ থেকে উপরে —শ্রী গুরুভ্যো নমঃ, শ্রী পরমগুরুভ্যো নমঃ, শ্রী পরাপরগুরুভ্যো নমঃ'।
ডানদিকে — গণেশায় নমঃ । পিছনে - ক্ষেত্রপালায় নমঃ। উপরে — ব্রহ্মণে নমঃ। নীচে অনন্তায় নমঃ । সম্মুখে— পূজনীয়দেবতাভ্যো নমঃ।
সূর্য্যার্ঘ্য দান-
বা হাতে তামার পাত্র বা কুশীতেই জল, রক্তপুষ্প, রক্তচন্দন, অক্ষত, দূর্বা প্রভৃতি নিয়ে , ডান হাতে আচ্ছাদিত করে নিম্ন মন্ত্রপাঠ করতে হবে ।
"নমো বিবস্বতে ব্রহ্মন ভাস্বতে বিষ্ণুতেজসে।
জগৎসবিত্রে শুচয়ে সবিত্রে কর্মদায়িনে।। "
বলে অর্ঘ্য পাত্রটি দু হাতে কৃতাঞ্জলির মতন করে ধরে , "এষো অর্ঘ্যঃ শ্রীসূর্যায় নমঃ" বলে তাম্রকুণ্ডের জলে ঢেলে দিতে হবে । পরে নিম্নোক্ত মন্ত্রে প্রণাম করবে ।
প্রণাম -
"জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোঽস্মি দিবাকরম্।।"
প্রাণায়াম -
( অদীক্ষিত হলে অগর্ভ প্রাণায়াম অর্থাৎ জপ বিহীন প্রাণায়াম করবে অথবা "শিবায় নমঃ" মন্ত্রে প্রাণায়াম করবে । দীক্ষিত হলে দীক্ষা প্রাপ্ত বীজমন্ত্রে প্রাণায়াম করবে । )
দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা দক্ষিণনাসাপুট ধারণ করতঃ বায়ু রোধ করবে।
বীজমন্ত্র ষোড়শবার জপ করতে করতে বাম নাসাপুট দিয়ে বায়ু পূরণ করে পূরক করবে ।
কনিষ্ঠা ও অনামিকা অঙ্গুলি দ্বারা বামনাসাপুট ধারণ করে বায়ু রোধ করে বীজমন্ত্র টি প্রথমবারের চতুর্গুণ-অর্থাৎ চৌষট্টিবার জপ করতে করতে বায়ু রুদ্ধ করে কুম্ভক করবে ।
তৎপরে অঙ্গুষ্ঠ দক্ষিণনাসা হতে তুলে বীজমন্ত্রের বত্রিশবার জপ করতে করতে দক্ষিণনাসাপুট দ্বারা ক্রমে ক্রমে বায়ু ত্যাগ করে রেচন করবে। বামহস্তে কর-রেখায় জপের সংখ্যা রাখিবে।
এই ভাবে পুনশ্চ বিপরীত ক্রমে-অর্থাৎ শ্বাস ত্যাগের পর ঐ দক্ষিণনাসা দ্বারাই পূর্ববৎ বীজমন্ত্রে জপ করতে করতে পূরক এবং উভয় নাসা রুদ্ধ করে কুম্ভক ও শেষে রেচক করতে হবে। অতঃপর পুনরায় অবিকল প্রথমবারের ন্যায় নাসাধারণ ক্রমানুসারে পূরক, কুম্ভক এবং রেচক করবে।
প্রাগুক্ত সংখ্যা জপ করতে অশক্ত হলে যথাক্রমে ৮।৩২।১৬ অথবা ৪।১৬।৮ বার জপ করলেও হয়।
সন্ধ্যার ক্ষেত্রে প্রাণায়ামের ক্ষেত্রে, পূরক কালে নাভিতে দ্বিভূজ, রক্তবর্ণ চতুর্মুখ , অক্ষসূত্র কমন্ডুল হস্ত, হংসে উপবিষ্ট ব্রহ্মার ধ্যান করবে ।
কুম্ভককালে হৃদয়ে নীলপদ্মের আভা যুক্ত , গরুড় বাহনে উপবিষ্ট, শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম ধারী চতুর্ভুজ কেশবের ধ্যান করবে ।
রেচক কালে ললাটে শ্বেত শুভ্র অঙ্গ, ত্রিশূল ডমরু ধারী, দ্বিভুজ, অর্ধচন্দ্রে মস্তক বিভূষিত , ত্রিনেত্র যুক্ত, বৃষভ বাহনে উপবিষ্ট শম্ভু ভগবান শিবের ধ্যান করবে ।
অনন্তর পুনঃ আচমন করবে ।
পুনঃ মার্জন করবে ।
অঘমর্ষণ -
ডান হাতে এক গণ্ডুষ জল নিয়ে , নাসিকা ছিদ্রে স্পর্শ করে , হাতের গোড়ালির দ্বারা ডান নাসাপুট রুদ্ধ করে , বাম নাসাপুট দ্বারা বায়ু আকর্ষণ করবে এবং কল্পনা করবে এই জলময় বায়ু মস্তক হতে হৃদয় হয়ে সর্বাঙ্গে সকল পাপ কে দ্রবীভূত করে, এই পাপ পুরুষ দক্ষিণ নাসা পুটে উপস্থিত হয়েছে । দক্ষিণ নাসাপুট দ্বারা বায়ু ত্যাগ করে একটি কল্পিত শীলা পৃষ্ঠে বাম হস্ত তলে, জল সহ ঐ পাপ পুরুষকে নিক্ষেপ করবে। এরকম তিনবার করবে ।
এরপর হাত ধুয়ে পুনরায় আচমন করবে ।
সূর্যের উদ্দেশ্যে তিন অঞ্জলী জল দেবে ।
অতঃপর কৃতাঞ্জলী হয়ে গুরু পরম্পরার স্মরণ করবে যথা-
নমঃ"সদাশিবসমারম্ভাং শঙ্করাচার্যমধ্যমাম্।
অস্মদাচার্য পর্যন্তাং বন্দে গুরুপরম্পরাম্।।"
অতঃপর নির্দিষ্ট সন্ধ্যার সময়ের নির্দিষ্ট সন্ধ্যা জপ করবে ।
সন্ধ্যা তিন প্রকার । প্রাতঃকালীন সন্ধ্যা, মধ্যাহ্ন কালীন সন্ধ্যা ও সায়াহ্ন কালীন সন্ধ্যা।
ভোরে সূর্যোদয়ের যে মুহূর্তে শুক তারা অবশেষ থাকে সেই মুহূর্ত প্রাতঃকালীন সন্ধ্যার জন্য সর্বোত্তম।
সূর্য্য যখন ঠিক মাথার উপরে অবস্থান করে সেই মুহূর্ত মধ্যাহ্ন কালীন সন্ধ্যার জন্য সর্বোত্তম।
সূর্য্য অস্ত যওয়ার সময় যখন স্বীয় আলো ও আধার সন্ধির সময় উপস্থিত হয় , সেই সময়ে সায়াহ্ন কালীন সন্ধ্যা করবে।
এবার নিম্নোক্ত মন্ত্র দশবার করমালায় জপ করবে।
"সর্বচৈতন্যরূপান্তামাদ্যাং বিদ্যাঞ্চ ধীমহি।
বুদ্ধিং যা নঃ প্রচোদয়াৎ।।"
~(শ্রীমদ্দেবীভাগবত মহাপুরাণ-১/১/১)
অর্থ:- যিনি সকল জীবের চৈতন্যস্বরূপা, তথা যিনি গুণাতীতা ও সর্বভূতের আত্মস্বরূপা পরমাত্মা, তিনিই বিশুদ্ধ সত্ত্বোপাধি স্বীকার করে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি প্রদান করেন, আমি সেই সর্ববিদ্যাশ্রেষ্ঠা দেবী ব্রহ্মবিদ্যার ধ্যান করি।
জপ বিসর্জন -
জপের পর ডান হাতে এক অঞ্জলী জল নিয়ে নিম্ন মন্ত্রে দেবীর উদ্যেশ্যে তাম্র কুণ্ডে জপ বিসর্জন করে দেবে ।
"গুহ্যাতিগুহ্যগোপ্তা ত্বং গৃহাণাস্মৎ কৃতং জপম্।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেবীং তৎপ্রসাদাৎ মহেশ্বরী।। "
অতঃপর হাত ধুয়ে ইষ্টপূজন করবে। যেমন-যদি ইষ্টদেবতা শিব হয় সেক্ষেত্রে নিম্নে সংক্ষিপ্ত শিবপূজা পদ্ধতি দেয়া হলো।
বাণেশ্বর আদি স্বয়ম্ভু লিঙ্গ সংগ্রহ করতে পারলে সর্বোত্তম। ওতেই শিবপূজা করবে। কারণ এই আধারে স্পর্শদোষ আদি হয়না। না থাকলে তাম্রকুন্ডে পুজা করবে।
কূর্মমুদ্রায় পুষ্প নিয়ে নিম্নোক্ত মন্ত্রটি পাঠ করবে:-
"ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজতগিরিনিভং চারুচন্দ্রাবতসং ।
রত্নাকল্লোজ্বলাঙ্গং পরশুমৃগবরাভীতিহস্তং প্রসন্নম্ ।।
পদ্মাসীনং সমস্তাৎ স্ততমমরগণৈ - র্ব্যাঘ্রকৃত্তিং বসানং ।
বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং নিখিলভয়হরং পঞ্চাবক্ত্রং ত্রিনেত্রম্ ।।"
অর্থ- রজত গিরির ন্যায় শুভ্রোজ্জল কান্তি বিশিষ্ট ভগবান শিবকে ধ্যান করি । মনোহর চন্দ্রকলা তাঁর ললাট ভূষণ , রত্নময় ভূষনে তাঁর দেহ সমুজ্জ্বল ।তদীয় হস্ত দ্বয়ে পরশু ও মৃগ মুদ্রা,বর ও অভয়মুদ্রা । তিনি ব্যাঘ্র চর্ম পরিধান করে পদ্মাসনে প্রফুল্ল ভাবে সমাসীন । দেব গন চতুর্দিক হতে তাঁর স্তব স্তুতি করছেন । তিনিই বিশ্বের আদি ও মূল কারন এবং নিখিল ভয়নাশক। তিনি পঞ্চ আনন বিশিষ্ট এবং তাঁর প্রতি আননে তিন তিনটি নয়ন ।
এবার পুষ্পটি নিজ মস্তকে রেখে ডান হাত হৃদয়ের ওপর এবং বাম হাত ডান হাতের ওপর রেখে নিম্নোক্ত শ্রী শিব মানসপূজা স্তোত্রটি পাঠ করবে:-
"রত্নৈ কল্পিত হিম জলৈঃ স্নানন্চ দিব্যান্বরং নানা রত্ন বিভূষিতং মৃগমদা মোদাঙ্কিতং চন্দনম্।
জাতি চম্পক বিল্ব পত্ররচিতং পুষ্পম চ ধূপম তথা দীপম দৈব দয়ানিধে হৃত কল্পিতম গৃহ্যতাম।।১
সৌবর্ণে নব রত্নখন্ড রচিতে পাত্রে ঘৃতম পায়েসং ভক্ষ্যং পঞ্চো পায়ো দধীযুক্তং রম্ভা ফলং পানকম্।
শাকানমযুক্তং জলং রুচিকরং কর্পুরখন্ডোজ্জ্বলম্ তাম্বুল মনসা ময়া বিরচিতম ভক্ত্যা প্রভু শ্রীকুরু।।২
ছত্রম্ চামরযুগম্ ব্যান্জনকম্ চাদর্সকম্ নির্মলম্ বীনা ভেরী মৃদঙ্গকাহালা কলা গীতম চ নৃত্যম্ তথা।
সাষ্ঠাঙ্গ প্রণতি স্তুতি বহু বিধা হেতৎ সমস্তাং ময়া সংকল্পেন সমর্পিতম্ তব বিভৌ পূজাং গৃহান্ প্রভু।।৩
আত্মাত্বং গিরিজামতি সহচরাঃ প্রাণাঃ শরীরং গৃহম পূজা তে বিষয়োপোভোগ রচনা নিদ্রা সমাধিস্তিথিঃ।
সঞ্চার পাদয়ো প্রদোক্ষিণিবিধিঃ স্তোত্রানি সর্বো গিরো য়দ য়ৎ কর্ম করোমি তৎ দখিলং শম্ভু তবো আরাধনম্।।৪
করচরণ কৃতং বাক্যায়জম্ কর্মজম্ বা শ্রবন নয়নজম্ বা মানসম্ বা পরাধম্ বিহিতম্ বিহিতম্ বা সর্বমেতৎ ক্ষমস্য জয় জয় হে করুনাধ্যেয় শ্রী মহাদেব শম্ভু।।"
স্তোত্র পাঠান্তে পুণরায় কূর্মমুদ্রায় পুষ্প নিয়ে ধ্যান করবে এবং পুষ্পটি দেবতার মস্তকে রাখবে। এবার ধীরে ধীরে উপাচারসমূহ নিবেদন করবে-
১)"এত্যৎ পাদ্যং শ্রী শিবায় নমঃ"(পা ধোঁয়ার জল অর্পণ করবে)
২)" এষোহর্ঘ্য শ্রী শিবায় নমঃ"(অক্ষত,পুষ্প,দূর্বা,বিল্বপত্র,চন্দন,জল ইত্যাদি দিয়ে অর্ঘ্য সাজিয়ে প্রভুকে নিবেদন করবে।)
৩)এতৎ স্নানীয়োদকং শ্রী শিবায় নমঃ (স্নানীয় জলের পাত্রে উক্ত মন্ত্রে জল দেবে এরপর নিম্নোক্ত পৌরাণিক ত্রম্ব্যক্ মন্ত্রে স্নান করাবে, যথা:-
"ত্রিয়ম্বকং ত্বাং চ যজামহে বয়ং সুপুণ্যগন্ধৈঃ শিবপুষ্টিবর্ধনম্। উর্বারুকং পক্বমিবোগ্রবন্ধনাদ্রক্ষস্ব মাং ত্র্যম্বক মৃত্যুমার্গাৎ॥")
৪) "এতৎ চন্দনা গন্ধং শ্রী শিবায় নমঃ"( ভগবানকে চন্দনের ফোঁটা দেবে)
৫) "এতৎ সচন্দন বিল্বপত্রং শ্রী শিবায় নমঃ" (ভগবানকে বেলপাতা অর্পণ করবে)
৬)"এতৎ সচন্দন দূর্বাদলং শ্রী শিবায় নমঃ"(ভগবানকে দূর্বা অর্পণ করবে)
৭)"এতৎ সচন্দন পুষ্পং শ্রী শিবায় নমঃ"(ভগবানকে পুষ্প অর্পণ করবে)
৮)"এষঃ ধূপং শ্রী শিবায় নমঃ"(ভগবানকে ধূপ প্রদর্শন করাবে)
৯) "এষঃ দীপং শ্রী শিবায় নমঃ"(ভগবানকে দীপ প্রদর্শন করাবে)
১০) "এতৎ আচমনীয়ং শ্রীশিবায় নমঃ"(ভগবানকে আচমনীয় জল দেবে)
১১) "এতৎ সোপাকরণ নৈবেদ্যং শ্রী শিবায় নমঃ" (ভগবানকে ফলমূল,চিনি,বাতাসা প্রভৃতির নৈবেদ্য অর্পণ করবে।নৈবেদ্যের ওপরে কুশ দিয়ে জলের ছিটা দেবে।)
১২)"এতৎ পুনরাচমনীয়ং শ্রী শিবায় নমঃ" (ভগবানকে পুণরায় আচমনীয় জল দেবে)
এবার হাতে ফুল বেলপাতা নিয়ে নিম্নোক্ত মন্ত্রে তিনবার অঞ্জলি প্রদান করবে:-
"এষঃ সচন্দন গন্ধপুষ্পে বিল্পপত্রাঞ্জলি শ্রী শিবায় নমঃ"
করজোড়ে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করবে-
"নমস্তুভ্যং বিরুপাক্ষ নমস্তে দিব্য চাক্ষুষে ।
নমঃ পিনাক হস্তায় বজ্র হস্তায় বৈ নমঃ।
নমঃ ত্রিশুল হস্তায় দন্ড পাশাসি পানয়ে।
নমস্তৈলোক্য নাথায় ভূতানাং পতয়ে নমঃ।
নমো শিবায় শান্তায় কারন ত্রয় হেতবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতি পরমেশ্বর।।"
এবার "শিবায় নমঃ" মন্ত্রটি ১০ বার জপ করে নিম্নোক্ত মন্ত্রে এক গন্ডুষ জল হাতে নিয়ে তাম্রকুন্ডে জপ বিসর্জন করবে। যথা:-
"গুহ্যাতীগুহ্যগোপ্তিত্বং গৃহাণাস্মৎ কৃতং জপম্।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেবং তৎপ্রসাদাৎ মহেশ্বর ।।"
করজোড় করে পাঠ করবে:-
"নমঃ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যদ্ভবেৎ।
পুনর্ভবতু তৎ সর্বং তৎ প্রসাদাৎ সুরেশ্বর।।"
ক্ষমাপ্রার্থনা-
পুণরায় হাত জোড় করে-
"মন্ত্রহীনং ক্রিয়াহীনং ভক্তিহীনং মহেশ্বর।
যৎপূজিতং ময়া পিতঃ পরিপূর্ণম্ তদস্তুমে।।"
ব্রহ্মযজ্ঞ-
গীতা,রামায়ণ,মহাভারত প্রভৃতির পাঠ করবে।
শিখা মুক্তকরণ - যাদের শিখা আছে তারা শিখার বিশেষ বন্ধন ও মুক্তকরন বিধি অনুসরণ করবে । যাদের শিখা নেই এবং শিখার স্থান স্পর্শ করে শুধু দৈব কর্ম করতেই বন্ধন করেছে তারা কর্ম সমাপনান্তে নিম্ন মন্ত্রে শিখার স্থান স্পর্শ করে শিখা মুক্ত করবে -
নমঃ"গচ্ছন্তু সকলা দেবা ব্রহ্মবিষ্ণুমহেশ্বরা: ।
তিষ্ঠত্বত্রাচলা লক্ষ্মী: শিখামুক্তং করোম্যহম্ ।।"
Tags
Sree Sree Thakur
