.........এই ব্যাসের অর্থাৎ পূর্ব্বপার (যাহাকে সম্মুখে দেখা যায়), আব্রহ্মস্তম্ভপর্য্যন্ত যাহা কিছু মনুষ্যাদি পশু পক্ষী কীট বৃক্ষ তরুলতা তৃণগুল্ম প্রভৃতি সকলই অপরাধ যুক্তে এই ব্যাসকাশীতে বন্দী পড়িয়া গ্রহগণের এবং প্রকৃতির গুণের অংশে পরিচালিত হইয়া থাকে। কেহই অর্থাৎ দেবতাই হউক, আর দানবই হউক, আর মানবই হউক, সকলের মধ্যে কাহারো কিছু করিবার অধিকার নাই। সকলেই প্রকৃতির গুণের তরঙ্গে পরিচালিত হইয়া থাকে। অতএব পূর্ব্বপার ব্যাসকাশী অর্থাৎ সীমাবদ্ধ জ্ঞান জানিবেন। পশ্চিম পার অর্থাৎ যাহাকে ভুলিয়া ত্রিলোকের লোকসকল এই পূর্ব্বপার সীমা জ্ঞানে আটক পড়িয়া থাকে, সেই পশ্চিম পার অর্থাৎ 'পিছনে' (যাহা লোকে পাছে বলে) সেই পিছনে অন্নপূর্ণার অবিমুক্ত স্থানহারা হইয়াই লোক অহংকারের ঘেরায় আটক পড়িয়া কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় ভাবে মগ্ন হইয়া গিয়া ভাল-মন্দ, সৎ-অসৎ স্থির করিতে না পারিয়া সুখের জন্যই লোভ করিয়া জ্ঞানহারা হইয়া থাকে। ইহাকে কাম কামনা বলে জানিবেন।
আমি অবিদ্যার ভাষা পরিদর্শক-কাজে কাজেই কিছু বুঝাইবার অঙ্ক আমার গোচরে নাই। .........সত্যনারায়ণ অর্থাৎ সত্যের আশ্রয় এই ভাব অর্থাৎ যোগ মিলনে সমস্ত বন্ধন কাটিয়া এই বর্ত্তমানের দেহত্যাগ হইলে পুনরায় আর দেহপাশ ভোগ করিতে হয় না জানিবেন। ''যদচ্ছালাভ সন্তুষ্ট দ্বন্দ্বাতীত বিমৎসর'' ইত্যাদি সত্যের সেবক জানিবেন।
নিজ নিজ অধিকারের দাবী না করিয়া কর্ত্তব্য সম্বন্ধে যত্নবান হইলে নির্দ্বন্দ্ব হয়। জীবের কোন বিষয়েই কর্ত্তৃত্ব নাই জানিবেন। স্ব স্ব ভাগ্যানুসারেই কর্ম্মফল পাইয়া ভোগ করিতে থাকে জানিবেন। ইহাকেই কর্ম্মফলদাতা ভগবান বলে। সংসার ভুলের আকর জানিবেন। সকলই অস্থায়ী। সত্যের অংশ নাই সকলই স্থায়ী জানিবেন।
-- শ্রীশ্রী রামঠাকুর
বেদবানী ৩য় খন্ড(৩)
নিজ নিজ অধিকারের দাবী না করিয়া কর্ত্তব্য সম্বন্ধে যত্নবান হইলে নির্দ্বন্দ্ব হয়।
byASH CREATION
-
0
