মায়ের প্রতি শ্রীশ্রীঠাকুরের অসীম করুণা
:::
বাবা ও মা ছিলেন ঠাকুরের পরম ভক্ত। বাবা প্রত্যহ ভোরবেলা শ্রীশ্রীঠাকুরের পূজা ও চণ্ডীপাঠ করে তবেই জল গ্রহণ করতেন। চা, হালুয়া, পাঁপড়ভাজা দিয়ে ঠাকুরের ভোগ দেওয়া হত।
শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন 'ক্যান আপনারা ভোরবেলা যা খান তাই আমাকে ভোগ দিবেন।' অবশ্য ঠাকুরের উপস্থিতিতে অন্যরকম ভোগও দেওয়া হত।
আমার মা ছিলেন সরল প্রকৃতির। সরলভাবে ঠাকুরের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। শ্রীশ্রীঠাকুর ও মাকে খুব ভালবাসতেন। মা ঠাকুরকে বললেন 'ঠাকুর মহাশয় আমি অল্প বয়সে শ্বশুর বাড়ীতে খুব কষ্ট ভোগ করেছি।' শ্রীশ্রীঠাকুর মহাশয় বললেন, 'সেই সময় আমি আপনার সঙ্গে সঙ্গে ছিলাম। আপনারা আমার শুধু এই জন্মের নয়, অনেক জন্মের চেনা। মা আপনি মনে কোন দুঃখ করবেন না।
আমরা যখন কালীঘাট রোডের বাড়ীতে ছিলাম সেই সময় প্রভাত কাকাবাবু (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক) টালীগঞ্জে বাড়ী কিনলেন। সেই সূত্রে তিনি আমাদের বাড়ীতে খুব আসতেন। ঠাকুরের পরম ভক্ত প্রভাতকাকুর সঙ্গ আমরা খুব পেয়েছি। আমরা ভাই বোন তখন ছোট ছিলাম, তিনি আমাদের সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুরের হিমালয় থাকাকালীন অনেক গল্প বলতেন এবং ঠাকুর যে স্বয়ং ভগবান নররূপে জন্মগ্রহণ করেছেন তাহাও তিনি আমাদের কাছে ব্যক্ত করতেন। আমাদের ভাই বোন সকলকে তিনি খুব ভালবাসতেন। আমি যে সময়ের কথা লিখছি সে সময় ঠাকুর মহাশয় বৌবাজার মতিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ীতে থাকতেন এবং মাঝে মাঝে আমাদের বাড়ীতে আসতেন।
