ঠাকুর পরবর্তীকালে একবার আমার সেজ ভ্রাতার কালির কারখানায় সদানন্দ রোডে অসুস্থ হয়ে গুপ্তভাবে অবস্থান করতেছিলেন। তখন নিজমুখে একদিন আমার সেজভাইকে বলেছিলেন, 'আমিই জগন্নাথ'।
পুরীধামে অবস্থানকালে শ্যামদা ও ভুবনদা কর্মস্থলে চলে গেলে আমি একাকী ঠাকুরের নিকট থাকতাম। তখন আমার মনের নানা প্রশ্ন ঠাকুরকে করতাম। ঠাকুরও আগ্রহ সহকারে আমার প্রশ্নের উত্তর দিতেন ও সরল ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন। চঞ্চল মনকে স্থির করবার উপায় সম্বন্ধে ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করলে ঠাকুর প্রত্যুত্তরে বললেন, 'একাগ্র চিত্তে নামের অভ্যাস করতে হয়। প্রথমে শূন্য চিন্তা করতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে ধৈর্য্য সহকারে শ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে নাম করে যেতে হয়। সর্ব্বদাই ধীর হতে হয়। ধীরের অভ্যাসেই মন চিত্ত ভাব সকল পবিত্র হয়। ধৈর্য্য ধারণ করে স্থির বুদ্ধির আশ্রয় করতে হয়। তাহলেই মনের চঞ্চলতা দূর হয়। সর্ব্বদাই নামে নির্ভর করে থাকবে। নামই সকল পাপ হতে নিষ্কৃতি করবেন।সঙ্গে সঙ্গে চৈতন্য শক্তির উদয় হবে।
নাম চিন্তামণিঃ কৃষ্ণঃ চৈতন্যরসবিগ্রহঃ।
নিত্য শুদ্ধঃ নিত্য মুক্তঃ অভিন্নো নাম-নামিনোঃ।
কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর
মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়
