এখন আমি আমার শিশুকে খাওয়াতে পারব না,আমার শরীর ভাল হইলে খাওয়াব—এইটা ত কোন কোন মায়ের মনে হয় না

 

এই যে ধরেন মা যে রোজ শিশুর সেবা করেন এর মধ্যে হয়ত তার কোনদিন তার শরীরটাও একটু খারাপ থাকে কিন্তু কোন মায়েরই ত এ কথা কখনও মনে হয় না যে,আমার শরীরটা এখন খারাপ বা মনটা খারাপ,তার খাওয়ার সময় হইলে কি হবে, এখন আমি আমার শিশুকে খাওয়াতে পারব না,আমার শরীর ভাল হইলে খাওয়াব—এইটা ত কোন কোন মায়ের মনে হয় না।এইটাই হইল সেবা বা নিষ্ঠা।তার অর্থ হইল এই, যে সেবা করে সে তার নিজের সুখ-দুঃখের দিকে তাকায় না।তার আমিত্ব ভাব কম থাকে কিন্তু যার সেবা করে তাকে সর্ব্বদা ভাল রাখতে চেষ্টা করে। 


ভগবানের সেবাও এই রকম।ঐ নাম করতে করতে প্রথমে একটু অসুবিধার সম্মুখীন হয়,ঐ যে মন স্থির হয় না।বেশিক্ষণ নাম করতে ভালো লাগে না।এইটা যে হয় এও একটা অবস্থা। যেমন, ধরেন গাছে যে একটা ফল পাকে,সে ত একদিনে পাকে না।প্রথমে গাছে একটা ফুল আসে,তার থেইক্যা কড়া আসে—সেই কড়া অবস্থা পার হইয়া ফল যখন বড় হয় তখন কাঁচা অবস্থা। কাঁচা অবস্থা পার হইয়া গিয়া হয় আধ পাকা অবস্থা। এই অবস্থাটাও পার হইয়া ফলটা যখন পাকে তখন মিষ্টি লাগে।তখন ভালো লাগে বা আনন্দ লাগে।সব ব্যাপারেই সেই পাকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।ঐ যে ভাল লাগে না,মন স্থির হয় না,এটাও একটা অবস্থা। এই সময়টা একটু ধৈর্য দরকার। নাম করবেন,নামকে ধইরা থাকতে হয়।ভাল লাগুক,মন্দ লাগুক,নামকে ছাড়বেন না।ভাল লাগা,মন্দ লাগা মনের ব্যাপার। মনের সেবা করতে যাইবেন না।মনের সঙ্গে যুদ্ধ করারও দরকার নাই,মনের সঙ্গে সায় দিয়া চলারও দরকার নাই। ঐ দিকটা লক্ষ্যই করবেন না।


তথ্যসূত্রঃ-

নাম সম্বন্ধে

শ্রীমৎ ভবতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় 

৪র্থ মোহন্ত মহারাজ

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post