***ঠাকুর নাম করলে কি হয়?




ঠাকুর জানালেন__


ক) নামে মুক্তি, নামে উদ্ধার :- “সর্ব্বদা ভগবানের নামের সঙ্গ

করিবেন, ভগবানই উদ্ধার করিবেন। অদৃষ্ট চক্রের ভোগ ভোগ একমাত্র

নামই মুক্ত করিয়া থাকেন।”

সারা জীবন নাম করলে যেহেতু মুক্তি মিলে, উদ্ধার হওয়া যায়, তাই

মুক্তির জন্য অন্য কোন ভাবনার কি দরকার আছে ?


খ) নামে শান্তি হয় ঃ- “সর্ব্বদা ধৈর্য্য সহকারে নাম করিবেন। নাম

করিতে করিতেই আপনার মনে শান্তি আসিবে । এক নাম ব্যতিত মনে শান্তি

পাইবার আর কোন উপায় নাই। যে কোনরূপ বিপদই হউক না কেন নাম

করিলেই সমস্ত শান্তি হইয়া যাইবে এবং নিজেও শান্তি পাইবে।


*গ) নামে মঙ্গল হয় :- “সর্ব্বদা ধৈর্য্য ধরিতে চেষ্টা করিবেন এবং

নাম করিবেন, তবেই অপনার মঙ্গল আসিবে।


ঘ) নামে অভাব দূর হয় :- “নামে পড়িয়া থাকিলে কোন অভাব

আসে না।”

ভগবানের ভাবই প্রকৃত ভাব।

[ভাব নেই ‘অভাব'। 'অভাব' ভাবের হতে পারে আবার বস্তুরও হয়ে

পারে। ভগবান ভাবগ্রাহী জনার্দন। তাই ভগবানের ভাব না থাকাই অভাব।

(ঙ) নাম নিত্যধামে নিয়ে যায়ঃ- ভাগ্যে যাহা ঘটিবে তাহাতেই সন্তে

ষে থাকিয়া সর্ব্বদা নাম করিয়া যাইতে যাইতে ভগবানের নিত্যধামে যাইতে

পারে। সেখানে অদৃষ্টচক্রের অধিকার নাই; কেবল নিত্যযুক্ত আনন্দময়।

*

চ) নামে প্রারব্ধ ক্ষয় হয় :-

“সর্ব্বদা সকল অবস্থায়ই ধৈর্য্য ধরিয়া সর্ব্বকাল নামের আশ্রয় লইয়া

থাকিতে হয়। এই নামেই প্রারদ্ধ ক্ষয় করিয়া পরমানন্দ পদ দান করিয়া

লইবে, সন্দেহ নাই।”

ছ) নামে চৈতন্য উদয় হয় :-

“নাম এবং ভগবান একই পদার্থ, নাম সর্ব্বদা হৃদয়ে জাগিয়া থাকিলেই

নাম প্রতিষ্ঠা এবং চৈতন্য হইয়া থাকে।”

জ) নামে জগতের পরিত্রাণ হয় :-

“এই নাম ভিন্ন জগতের ত্রাণে প্রাপ্ত আর কিছুই নাই”।


ঝ) নাম অবতার শক্তি :-

“এই নামের সঙ্গে সর্ব্বদা থাকিতে থাকিতে অবতার শক্তি সমভাব

প্রকট হয়। ইহাই অবতার শক্তি।”

ঞ) নামে ব্রজবাস হয় :- “নাম করিতে করিতে ব্রজবাসী হইয়া

যায়।”

[ওরে! আজ এ কি সৌভাগ্য গৃহবাসীদের। নাম করিতে করিতে

গৃহবাসীরা সকলেই ব্রজবাসী হয়ে যাবেন। এ সুযোগ কি হেলায় হারানো

যায়?]

** যেখানে নাম হয় :- সেখানেই ব্রজধাম, বৃন্দাবন ধাম, মথুরা ধাম।

ট) নামে মুক্তি পায়, নামে মন স্থির হয় 

“নামই একমাত্র সংসারীকে মুক্তিদান করিতে পারে। নামই মন স্থির

করিতে পারে।”


ঠ) নামে গঙ্গাস্নান, বিষ্ণুপাদপদ্মে পিণ্ডদান, তীর্থবাস আর জীবন্মুক্তি কিভাবে হয়?

এ বিষয় অখণ্ড মণ্ডলেশ্বর স্বামী স্বরূপানন্দজী বলেন-

* নামের প্রবাহে স্নান করাই গঙ্গাস্নান।

* নামের সেবায় কামনাহীন চিত্তকে সম্যক অর্পণ করাই গয়াক্ষেত্রে

বিষ্ণুপাদপদ্মে পিণ্ডদান।

* নামের জ্যোতিতে অবস্থানই তীর্থবাস।

* নামের সেবায় ব্রহ্মাণ্ড বিস্মরণই জীবন্মুক্তি।


ড) নামে সর্ব ঋণ মুক্ত করেঃ- নামে দেব ঋণ, ঋষি ঋণ, ভূত ঋণ,

মনুষ্য ঋণ, পিতৃপুরুষদের ঋণ মুক্ত করে।


ঢ) নামে সর্ব তীর্থ দর্শন ও স্নানের ফল মিলে :-

নামে গঙ্গা যমুনাদি সকল তীর্থবারিতে অবগাহনের এবং সকল তীর্থ

দর্শনের ফল মিলে।


ণ) নামেই বৈষ্ণব করেঃ-

“অতএব যাঁর মুখে এক কৃষ্ণ নাম

তাঁহারে বৈষ্ণব জানি করহ সম্মান।

কৃষ্ণ নাম নিরন্তর যাঁহার বদনে

তিনিই বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ ধর তাঁহার চরণে।

যাঁহার দর্শনে আসে মুখে কৃষ্ণ নাম

তাঁহারে জানিও তুমি বৈষ্ণব প্রধান।”

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post